মৃত্যুর পর মায়ের মরদেহে পচন, জানেন না বুয়েট শিক্ষক-সচিবসহ সন্তানেরা।

২ জুন ২০২৬, ১০:৫৭:৩০

মৃত্যুর পর মায়ের মরদেহে পচন, জানেন না বুয়েট শিক্ষক-সচিবসহ সন্তানেরা।

ইসলামী সমাজব্যবস্থায় পিতা-মাতার স্থান আরশের নিচে সবচেয়ে সম্মানিত হলেও রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা পুরো মুসলিম উম্মাহর বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

এক ছেলে সরকারের যুগ্মসচিব, আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক এবং মেয়ের জামাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও (৭৫ বছর) বয়সী বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমকে শেষ বয়সে একটা পরিত্যক্ত ও নোংরা ঘরে ধুঁকে ধুঁকে একা মরতে হয়েছে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ যখন সেই অন্ধকার ঘরের দরজা খোলে, তখন দেখা যায় ক্ষমতার দাপটে অন্ধ ও ভোগবাদী সন্তানদের জন্মদাত্রী মায়ের মরা শরীরকে উইপোকা কামড়ে খাচ্ছে।

মৃত্যুর দীর্ঘ সাত-আট দিন পার হয়ে লাশ পচে যখন এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াল, তখন প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ এলো, অথচ মায়ের গর্ভধারিণী রক্তের কোনো খোঁজ মিলল না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) দেড় হাজার বছর আগেই কিয়ামতের আলামত হিসেবে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে:- শেষ জামানায় সন্তান তার মায়ের অবাধ্য হবে এবং তাকে দাসীর মতো আচরণ করবে—পল্লবীর এই নির্মম ট্র্যাজেডি যেন সেই হাদিসেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে যেখানে পিতা-মাতার সামনে ‘উফ’ শব্দটিও করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে এই উচ্চশিক্ষিত পশুতুল্য সন্তানেরা নিজেদের গর্ভধারিণীকে ডাস্টবিনের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ইসলাম ও মানবতার মুখে চুনকালি মেখেছে।

এই পৈশাচিক ঘটনা প্রমাণ করে যে:- সন্তানকে দ্বীনিয়াত, পরকালভীতি ও নৈতিক শিক্ষা না দিয়ে কেবল দুনিয়াবী ডিগ্রি আর টাকার গোলাম বানালে তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বার্থপর রোবটে পরিণত হয়।

নূরজাহান বেগমের পচা লাশের এই তীব্র গন্ধ আসলে কোনো লাশের গন্ধ নয়, এটি ইসলামের পারিবারিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলা আমাদের মরে যাওয়া সমাজের এক পচা পুতিগন্ধময় রূপ।

Cumillar Voice’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।