৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করছেন কামলেশ মাঝি।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮:৩৬

 

৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করছেন কামলেশ মাঝি।

নিজের আয় সামান্য, নেই জমি-জমা কিংবা স্বচ্ছলতা—তবুও চার দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করে চলেছেন ময়মনসিংহের কামলেশ মাঝি। তাঁর নৌকায় সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া পাঁচ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া শূন্য।

ভোরের আলো ফুটতেই নৌকার ইঞ্জিন চালু করেন কামলেশ মাঝি। কখনো বৈঠা হাতে স্রোতের সঙ্গে লড়াই করেন, কখনো নৌকার গতিপথ ঠিক করেন। ময়মনসিংহের সুতারচাপর ঘাট থেকে নিগুয়ারি বাজার ঘাট—এই ছোট্ট নদীপথেই কেটে গেছে তাঁর জীবনের প্রায় ৪২ বছর।

বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী কামলেশের নৌকায় প্রতিদিন সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি ওঠে অসংখ্য শিক্ষার্থী। কারও হাতে বই-খাতা, কারও কাঁধে স্কুলব্যাগ। নদীর ওপারে নিগুয়ারি সাইদুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়, নিগুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কলেজে যাওয়ার প্রধান মাধ্যমগুলোর একটি এই নৌপথ।

নৌকা ঘাটে ভিড়লে সাধারণ যাত্রীরা পাঁচ টাকা করে ভাড়া দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে ভাড়ার জন্য হাত বাড়ান না কামলেশ। একদিন-দুইদিন নয়, প্রায় ৪২ বছর ধরেই শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করে আসছেন তিনি।

বাবার কাছ থেকে পাওয়া মানবিক শিক্ষা

কামলেশের এই মানবিকতার শিকড় তাঁর পরিবারে। তাঁর বাবা দীনেশ চন্দ্র মাঝিও এই ঘাটে নৌকা চালাতেন। দাদা উমেশ চন্দ্র মাঝি এবং পূর্বপুরুষ বিহারি মাঝিও ছিলেন একই পেশায়।

কামলেশের বয়স যখন মাত্র ১০ বছর, তখন বাবা তাঁর হাতে বৈঠা তুলে দিয়ে নৌকা চালানো শেখান। সেই সঙ্গে দিয়ে যান একটি নির্দেশ—স্কুল-কলেজে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না।

বাবার সেই কথা আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছেন কামলেশ।

সময়ের সঙ্গে নদী পারাপারের ভাড়া বদলেছে। একসময় ১০ পয়সা, পরে ১৫ পয়সা, এরপর চার আনা—এভাবে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে।

Cumillar Voice’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।